schema:text
| - সকল গ্রেডের সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কার করে কোটা ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীরা গত পহেলা জুলাই থেকে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে গত ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়েও কথা বলেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হন। এর প্রেক্ষিতে বিক্ষোভের মাত্রা বাড়ে, ঘটে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা, এসেছে বহু হতাহতের খবরও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং এ ইস্যুতে সহিংসতার মধ্যেই দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকের কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
একই দাবিতে ইউটিউবের একটি ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, কোটা আন্দোলনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার দাবিটি সঠিক নয় বরং ইন্ডিয়া টুডে এনই এর এ সংক্রান্ত সংবাদের বরাতে ভুয়া এই দাবিটি ছড়িয়ে পড়লেও পরবর্তীতে গণমাধ্যমটি সংবাদটি সরিয়ে নিয়ে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তাছাড়া, উক্ত দাবি প্রচার পরবর্তী সময়েও প্রধানমন্ত্রীকে তার বাসভবনে একাধিক বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে এ সংক্রান্ত দাবিকৃত পোস্টগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব পোস্টে উক্ত দাবির পক্ষে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এর নাম এবং সংবাদমাধ্যমটির একটি সংবাদের স্ক্রিনশট প্রচার করা হয়েছে৷
গত ২১ জুলাই ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপ এর সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এনই’তে “Indian students flee Dhaka amid violent clashes, PM Sheikh Hasina airlifted” শিরোনামে আলোচিত সংবাদটি প্রকাশ করা হয়। যদিও সংবাদটি এখন আর ওয়েবসাইটটিতে দেখা যাচ্ছে না। তবে সংবাদটির আর্কাইভ সংস্করণ ঘেঁটে দেখা যায়, আলোচিত দাবিটি এই প্রতিবেদনে এসেছে এভাবে, “এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে, খবর নিশ্চিত করেছে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঢাকায় তার বাসভবন থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার বর্তমান অবস্থান অজানা রয়ে গেছে।”
শেখ হাসিনা সংক্রান্ত দাবিটি কোন নির্দিষ্ট সূত্র ছাড়া প্রকাশ করেছে গণমাধ্যমটি। আবার সংবাদটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়েও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ততক্ষণে সংবাদটির স্ক্রিনশট ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধান করে জেনেছে, এই সংবাদ প্রকাশের তারিখে (২১ জুলাই) শেখ হাসিনা ঢাকাতেই ছিলেন৷ সেদিন বিকেলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকটি তার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অবশ্য সেদিনই (২১ জুলাই) তিনদিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে স্পেনে যাওয়ার কথা ছিল। এরপর সেখান থেকে ব্রাজিলে যাওয়ার সূচীও নির্ধারণ করা ছিল। তবে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১৯ জুলাইতেই এই দুই দেশ সফর বাতিল করা হয়।
আলোচিত দাবিটি প্রচারের পরদিন (২২ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করতে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্দোলনের মধ্যে গুজব ছড়ানো হয়েছে, শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু বলে দিতে চাই, শেখ হাসিনা পালায়নি, পালায় না।’
এদিকে ইন্ডিয়া টুডে এনই গত ২২ জুলাই তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ প্রতিবেদনে জানায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত সংবাদটির জন্য নয়াদিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন একটি প্রতিবাদ লিপি পাঠিয়েছে তাদের কাছে। হাইকমিশন বলেছে, যে কোনো দেশের এমন সংকটময় মুহূর্তে গুজবের ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের ভুল তথ্য ও প্রতিবেদন জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে, এমনকি সংকটে ইন্ধন যোগাতে এবং পরিস্থিতিকে আরও বিশৃঙ্খল করে তুলতে পারে। এছাড়া সংবেদনশীলতা অনুধাবন না করে, এই ধরনের প্রতিবেদন কেবল জনগণ ও সমাজকে ব্যাপক নেতিবাচকভাবে প্রভাবিতই করে না, বরং যে কোনো সংবাদ আউটলেটের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
একই প্রতিবেদনে ইন্ডিয়া টুডে এনই কর্তৃপক্ষ ভুয়া দাবিটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।
মূলত, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং এ ইস্যুতে সহিংসতার মধ্যেই দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব দাবির পক্ষে ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এনই এর নাম সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে দেখেছে, শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার যে দাবি প্রচার করা হয়েছে তা সঠিক নয়৷ ইন্ডিয়া টুডে এনই এর ওয়েবসাইটে ২১ জুলাই উক্ত দাবি সম্বলিত সংবাদ প্রকাশ হলেও সেদিন প্রধানমন্ত্রীকে গণভবনে বৈঠক করতে দেখা যায়। তাছাড়া, পরবর্তীতে ইন্ডিয়া টুডে এনই উক্ত সংবাদটি সরিয়ে নেয় এবং ভুয়া এই দাবির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।
সুতরাং, কোটা আন্দোলনের সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছেন শীর্ষক একটি দাবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- India Today NE: Bangladesh High Commission refutes India Today NE’s report on PM Sheikh Hasina’s airlift
- Rumor Scanner’s own analysis
|