‘সন্ত্রাস বিরোধী আইন-২০০৯’ অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ২০১৯ সালে হিযবুত তাহ্রীর এবং ২০১৫ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে নিষিদ্ধ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৩ অক্টোবর একই আইনে আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরই ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স এ দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস হিযবুত তাহ্রীর এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নিষিদ্ধের আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
এক্স পোস্টটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
একই দাবিতে ফেসবুকের পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিযবুত তাহ্রীর এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নিষিদ্ধের আদেশ প্রত্যাহার করেনি বরং কোনো প্রকার তথ্যসূত্র ছাড়াই আলোচিত দাবিটি ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে ৯ সেপ্টেম্বর তারিখে “হিজবুত তাহরীরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হিযবুত তাহরিরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানায় সংগঠনটির নেতারা।
অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে গত ২৬ আগস্ট তারিখে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী গত ২৬ আগস্টে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।
তবে সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস হিযবুত তাহ্রীর এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন এমন দাবির সপক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্যপ্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, “হিযবুত তাহ্রীর ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি বাংলাদেশ সরকার। দুটি দল এখনও বাংলাদেশে নিষিদ্ধ।”
উল্লেখ্য, গত ১ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯-এর ধারা ১৮(১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ এর সব অঙ্গসংগঠনকে রাজনৈতিক দল ও সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর গত ২৮ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আব্দুল মোমেন স্বাক্ষতির এক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ এর সব অঙ্গসংগঠনকে রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়।
সুতরাং, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস হিযবুত তাহ্রীর এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন শীর্ষক দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Prothom Alo – হিজবুত তাহরীরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি
- Bangla Tribune – আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জামিনে মুক্ত
- Statement from Shafiqul Alam