schema:text
| - বিগত কয়েক মাস ধরে “অবৈধ ক্ষমতাকে বা কেউ যদি ভোট চুরি করে সেটা আওয়ামী লীগ পারে, সেটা আমরা প্রমাণ করেছি” শীর্ষক মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করেছেন দাবিতে তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেসবুক এবং ইউটিউবে প্রচার করা হচ্ছে।
ফেসবুকে উক্ত দাবিতে প্রচারিত ভিডিও দেখুন পোস্ট (আর্কাইভ), পোস্ট (আর্কাইভ), পোস্ট (আর্কাইভ) এবং পোস্ট (আর্কাইভ)।
ইউটিউবে উক্ত দাবিতে প্রচারিত ভিডিও দেখুন পোস্ট (আর্কাইভ)।
টিকটকে উক্ত দাবিতে প্রচারিত ভিডিও দেখুন পোস্ট (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন কোনো মন্তব্য করেননি বরং বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিও এডিটের মাধ্যমে কাটছাঁট করে খণ্ড খণ্ড অংশ জোড়া লাগিয়ে উক্ত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিভিশন (BTV) এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ১০ জানুয়ারিতে প্রচারিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের মূল ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়।
ভিডিওটি থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন। প্রচারিত ভিডিওর ১ ঘন্টা ৫৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ ঘন্টা ৫৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ড পর্যন্ত শেখ হাসিনার দেওয়া ভাষণে বলেন, “কিন্তু অবৈধ ক্ষমতাকে বা কেউ যদি ভোট চুরি করে, তাকে ক্ষমতা থেকে হটানো সেটা আওয়ামী লীগ পারে এটা আমরা প্রমাণ করেছি। এটা আমরা প্রমাণ করেছি বারবার। আমরা গণতন্ত্রের চর্চা নিজের দলে করি, দেশেও গণতন্ত্রের চর্চা করি।”
এছাড়া, SATV এর ফেসবুক পেজে গত ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার একই বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বিএনপিকে সমালোচনাকে করে দলটির বিরুদ্ধে অবৈধ ক্ষমতা এবং ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু, ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওটি প্রধানমন্ত্রীর মূল বক্তব্য থেকে খণ্ড খণ্ড অংশ কেটে এডিটেডের মাধ্যমে জোড়া লাগিয়ে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচারিত করা হচ্ছে।
মূলত, গত ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য প্রদান করেন। উক্ত অনুষ্ঠান চলাকালীন একপর্যায়ে তিনি বলেন, “কিন্তু অবৈধ ক্ষমতা বা কেউ যদি ভোট চুরি করে, তাকে ক্ষমতা থেকে হটানো সেটা আওয়ামী লীগ পারে। এটা আমরা প্রমাণ করেছি। এটা আমরা প্রমাণ করেছি বারবার। আমরা গণতন্ত্রের চর্চা নিজের দলে করি, দেশেও গণতন্ত্রের চর্চা করি।” তবে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই বক্তব্য থেকে ‘তাকে ক্ষমতা থেকে হটানো’ শীর্ষক অংশটি বাদ দিয়ে “অবৈধ ক্ষমতাকে বা কেউ যদি ভোট চুরি করে সেটা আওয়ামী লীগ পারে, এটা আমরা প্রমাণ করেছি” শীর্ষক অংশ বিকৃতভাবে প্রচার করা হচ্ছে। যার ফলে আলোচিত বক্তব্যটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, পূর্বেও বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ইন্টারনেটে বিকৃতভাবে প্রচার করা হলে সেগুলো শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার। প্রতিবেদনগুলো দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
সুতরাং, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘অবৈধ ক্ষমতাকে বা কেউ যদি ভোট চুরি করে সেটা আওয়ামী লীগ পারে, সেটা আমরা প্রমাণ করেছি’ শীর্ষক দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত ভিডিওটি বিকৃত বা এডিটেড।
তথ্যসূত্র
- BTV – Youtube Live
- SA TV – Facebook Live
- Rumor Scanner’s own analysis
|