schema:text
| - সম্প্রতি ‘ড. ইউনূসকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে তুরস্কের চিঠি’ শীর্ষক দাবিতে একটি তথ্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখুন কালবেলা, চ্যানেল২৪, দৈনিক আমাদের সময় ডটকম, আমাদের সময়, নয়া শতাব্দী, সাম্প্রতিক দেশকাল, বাংলাদেশ জার্নাল, একুশে সংবাদ, বাহান্ন নিউজ, শেয়ারনিউজ২৪, সময়ের কণ্ঠস্বর, দ্যা রিপোর্ট২৪, বাংলা ইনসাইডার, পদ্মা টাইমস২৪, কালের আলো, দৈনিক দিগন্ত, প্রবাস বাংলা নিউজ, সিইএনএন টিভি, আজকের ক্রাইম টাইমস, জনতার আওয়াজ, দৈনিক বার্তা।
গণমাধ্যমের পেজসহ ফেসবুকের অন্যান্য পেজে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন পোস্ট (আর্কাইভ), পোস্ট (আর্কাইভ), পোস্ট (আর্কাইভ), পোস্ট (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ড. ইউনূসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এখন অবধি কোনো চিঠি দেয়নি তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রকৃতপক্ষে তুরস্কের একটি এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা ড. আজিজ আকগুল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে চলা বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন।
এ নিয়ে অনুসন্ধানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ Muhammad Yunus এ গত ৩১ আগস্ট ‘Letter from Turkey to Professor Muhammad Yunus’ শীর্ষক শিরোনামে আলোচিত চিঠিটি খুঁজে পাওয়া যায়।
চিঠিটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চিঠিটি লিখেছেন তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সদস্য এবং Türkiye Grameen Mikrofinans Programi নামের একটি এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা ড. আজিজ আকগুল। তিনি চিঠিটি লিখেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে উদ্দেশ্য করে।
এই চিঠিটিতে ড. আজিজ আকগুল তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে উদ্দেশ্য করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে লিখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের আইন লঙ্ঘন করে শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে অন্যায় ও ভিত্তিহীন তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।’
পাশাপাশি চিঠিটিতে ড. আজিজ আকগুল তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অবগতির জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নোবেল বিজয়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামাসহ ১০৩ জন নোবেল বিজয়ী ও ৭০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি বলে বিবৃতিও যুক্ত করে দেন। এছাড়া চিঠির শেষ অংশে তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমর্থনের বিষয়েও অনুরোধ করেন।
ড. ইউনূসকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে তুরস্কের চিঠি দাবিতে প্রচারিত উক্ত চিঠিটি নিয়ে সার্বিক বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, এই চিঠিটি তুরস্ক থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো হয়নি। প্রকৃতপক্ষে চিঠিটি তুরস্কের একটি এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা ড. আজিজ আকগুল ড. ইউনূসের ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর পাঠিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ড. আজিজ আকগুল দুইজনেই তুরস্কের Türkiye Grameen Mikrofinans Programi এনজিওটির প্রতিষ্ঠাতা।
মূলত, গত ২৯ আগস্ট তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সদস্য এবং Türkiye Grameen Mikrofinans Programi নামের একটি এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা ড. আজিজ আকগুল একই এনজিও’র আরেক প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের চলমান বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর একটি চিঠি লিখেন, যা গত ৩১ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও প্রচার করা হয়। তবে পরবর্তীতে এই চিঠিটিকেই দেশীয় কতিপয় গণমাধ্যমে ড. ইউনূসকে নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে তুরস্কের চিঠি দাবিতে প্রচার করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিচার শুরু হয়। এর আগে গত ৬ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছিলেন আদালত।
সুতরাং, ড. ইউনূসকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে তুরস্কের চিঠি দেওয়ার দাবিতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Muhammad Yunus: Letter from Turkey to Professor Muhammad Yunus
- Daily Jugantor: ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলার বিচার শুরু
- Rumor Scanner’s own analysis
|