schema:text
| - অন্তত গতরাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও সংযুক্ত করে দাবি প্রচার করা হচ্ছে, “আজকে (১৭ নভেম্বর) প্রকাশ্য দিবালোকে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের উপ পরিবেশ সম্পাদক এস এম মুন্নাকে জ*বা*ই করে হ-ত্যা করা হয়েছে!”
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, রংপুরে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী মাহমুদুল হাসান মুন্না তথা এস এম মুন্না গতকাল (১৭ নভেম্বর) নিহত হননি বরং, তিনি নিহত হয়েছেন গত ০৪ আগস্ট।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে মূলধারার গণমাধ্যম প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ৩০ আগস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। “রংপুরে সাবেক দুই প্রতিমন্ত্রী ও চার এমপির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা” শিরোনামে প্রকাশিত উক্ত সংবাদ প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, “রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মাহমুদুল হাসান (মুন্না) নামের এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ ১২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। […] মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিক্ষোভ চলার সময় রংপুর শহরের মিনি সুপার মার্কেটের সামনে ছাত্র-জনতার ওপর আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। ওই দিন বাবা আবদুল মজিদকে দুপুরের খাবার দিতে গেলে হামলাকারীরা মাহমুদুল হাসান মুন্নাকে লাঠিসোঁটা–দেশি অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।” মূলধারার সংবাদমাধ্যম যুগান্তরের ওয়েবসাইটে গত ২৯ আগস্ট তারিখে প্রকাশিত সংবাদেও আইনজীবীর বরাতে একই তথ্য জানা যায়।
উল্লেখ্য যে, এই হত্যা মামলায় সম্প্রতি সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছোট ভাই শামসুজ্জামান আহমেদ ভুট্টুকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এই বিষয়ে “ছাত্রলীগ নেতা হত্যা : সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রীর ভাই গ্রেপ্তার” শিরোনামে ঢাকা পোস্টের ওয়েবসাইটে গত ২৭ অক্টোবরে প্রচারিত একটি সংবাদ প্রতিবেদন থেকেও জানা যায়, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ৪ আগস্ট সংঘর্ষে ছাত্রলীগের কাউনিয়া শাখার সাবেক উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মুন্নাসহ চারজন আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হন।”
এছাড়া, এই বিষয়ে মুন্নার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সাজুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও নিশ্চিত করেন, মুন্না গত ০৪ আগস্ট নিহত হয়েছেন।
পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে গতকাল (১৭ নভেম্বর) বা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত দাবির অনুরূপ কোনো ঘটনা ঘটার সপক্ষে নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য যে, প্রচারিত ভিডিওটি মুন্না হত্যাকাণ্ডের ঘটনারই কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ভিডিওটি সংযুক্ত করে মুন্নার নিহত হওয়ার তারিখের ব্যাপারে প্রচারিত দাবিটি যে সঠিক নয়, তা নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে।
সুতরাং, গত ০৪ আগস্ট রংপুরে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী মুন্না গতকাল (১৭ নভেম্বর) নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- Prothom Alo – রংপুরে সাবেক দুই প্রতিমন্ত্রী ও চার এমপির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
- Jugantor – রংপুরে আরও ২ মামলা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-সমাজকল্যাণমন্ত্রী আসামি
- Dhaka Post – ছাত্রলীগ নেতা হত্যা : সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রীর ভাই গ্রেপ্তার
- Rumor Scanner’s own analysis
|