schema:text
| - গত ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০২৪ উপলক্ষে প্রায় ১৪ বছর পর সেনাকুঞ্জে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, দীর্ঘদিন পর তিনি সেদিন জনসম্মুখে কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন৷ এই অংশগ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জনের মধ্যে ‘খালেদা জিয়ার টেবিলে কোকাকোলা, ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা’ শীর্ষক শিরোনামে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর এবং ‘খালেদা জিয়ার টেবিলে কোকাকোলা, তৌহিদি জনতার ক্ষোভ প্রকাশ’ শীর্ষক শিরোনামে ইলেকট্রনিক মিডিয়া যমুনা টিভির ডিজাইন সম্বলিত পৃথক দুটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়৷
প্রথম আলোর ফটোকার্ড দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)৷
যমুনা টিভির ফটোকার্ড দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)৷
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, খালেদা জিয়ার টেবিলে কোকাকোলা থাকা ও নেটিজেন/তৌহিদি জনতার ক্ষোভ বিষয়ক কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রথম আলো কিংবা যমুনা টিভি কেউই প্রকাশ করেনি বরং, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথম আলো ও যমুনা টিভির লোগো ব্যবহার করে তাদের প্রচলিত ফটোকার্ডের আদলে আলোচিত ফটোকার্ড দুটি তৈরি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডগুলোতে ব্যবহৃত ছবিটির রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে জানা যায়, গত ২১ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নামের ফেসবুক প্রোফাইলের একটি পোস্টে কয়েকটি ছবি খুঁজে পাওয়া যায়৷ উক্ত পোস্টের একটি ছবির সাথে আলোচিত ফটোকার্ডগুলোর ছবিটির মিল রয়েছে৷
আলোচিত প্রথম আলোর ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে প্রথম আলোর লোগো ও প্রকাশের তারিখ হিসেবে ২১ নভেম্বর ২০২৪ দেখতে পাওয়া যায়। তবে, আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে প্রথম আলোর প্রচলিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়৷
আলোচিত ফটোকার্ডে উল্লিখিত তারিখের সূত্র ধরে প্রথম আলোর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করে উক্ত শিরোনাম সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও, প্রথম আলোর ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বরং, গত ২১ নভেম্বর তারিখে প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ থেকে একটি ফটোকার্ড পোস্টের মাধ্যমে এটা নিশ্চিত করা হয় যে আলোচিত তথ্য ও ফটোকার্ডটি প্রথম আলো প্রকাশ করেনি।
অন্যদিকে, আলোচিত যমুনা টিভির ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে যমুনা টিভির লোগো দেখতে পাওয়া যায়। তবে, এটি প্রকাশের তারিখের উল্লেখ পাওয়া যায়নি যা যমুনা টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডে থাকে৷
এই বিষয়ে অধিকতর নিশ্চিত হতে যমুনা টিভির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত ফটোকার্ড ও সংবাদগুলো পর্যালোচনা করে উক্ত শিরোনাম সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
প্রথম আলো ও যমুনা টিভি ব্যতীত অন্য কোনো গণমাধ্যমেও আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ‘খালেদা জিয়ার টেবিলে কোকাকোলা, ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা’ শীর্ষক শিরোনামে প্রথম আলোর এবং ‘খালেদা জিয়ার টেবিলে কোকাকোলা, তৌহিদি জনতার ক্ষোভ প্রকাশ’ শীর্ষক শিরোনামে যমুনা টিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট।
তথ্যসূত্র
- Asif Mahmud – Facebook Post
- Prothom Alo – Facebook Post
- Rumor Scanner’s Own Analysis
|