schema:text
| - সম্প্রতি সকল গ্রেডের সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। গতকাল ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হন, যা এই আন্দোলনে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।
এই প্রেক্ষাপটে রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৪ এসএসসি ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী মিতার চোখে গুলি লেগে নিহত হওয়ার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি নারীর ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, কোটা আন্দোলনে রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিতা মারা যানিনি বরং তিনি সুস্থ আছেন বলে তার বড় বোন রিউমর স্ক্যানারকে নিশ্চিত করেছেন।
এই বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে অনলাইন গণমাধ্যম ঢাকা পোস্টের নীলফামারী প্রতিনিধি শরিফুল শরিফের ফেসবুক আইডিতে উক্ত দাবিটি গুজব জানিয়ে একটি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। শরিফুল শরিফ ছবিতে থাকা মেয়েটির সহপাঠীর মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে রিউমর স্ক্যানারকে জানান।
শরিফুল শরিফ আমাদের ‘Lamiya Akhter Lammi’ নামের একটি ফেসবুক আইডিতে প্রচারিত পোস্টের লিংকও প্রদান করেন। উক্ত পোস্টে লামিয়া লেখেন, “দয়া করে কেউ পোস্ট টা শেয়ার করিয়েন নাহ সে আমার ফ্রেন্ড Meshkatul Jannat এর ছোট বোন, সে ভালো আছে এবং সুস্থ আছে, শুধু শুধু পরিবারের সদস্যদের ও জনসাধারণদের বিভ্রান্তিতে ফেলিয়েন না।”
পরবর্তীতে মেশকাতুল জান্নাতের সাথে যোগাযোগ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। তিনি জানান, নিহত দাবিতে প্রচারিত ছবিটি তার বোন মিফতাহুল জান্নাত মিতার। প্রাইভেটে যাওয়ার পথে আন্দোলনে পড়েছিল মিতা। তবে বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
এছাড়া গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে ‘SZS Multi Vlogs’ নামের একটি ফেসবুক পেজে শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত মিতার একটি ভিডিও বার্তা পাওয়া যায়। ভিডিওতে মিতা জানান, তার মৃত্যুর সংবাদটি ভুয়া এবং তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন। তিনি বলেন, বেরোবির ১ নম্বর গেটে আন্দোলন চলাকালে পুলিশ তাদের ওপর রাবার বুলেট ছোড়ে, তখন তার চোখের ওপরে এবং নিচে দুটি রাবার বুলেট লাগে। তবে তিনি এখন ভালো আছেন।
মূলত, গতকাল ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বেরোবির ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে নিহত হয়েছেন দাবিতে একটি ছবি প্রচার করা হয়। তবে রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ছবিতে থাকা শিক্ষার্থীটি রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি-২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত মিতা। মিতার বড় বোন রিউমর স্ক্যানারকে জানিয়েছেন, মিতা বর্তমানে সুস্থ আছেন। এছাড়া মিতা নিজেও একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের সুস্থতার কথা নিশ্চিত করেন।
সুতরাং, কোটা সংস্কার আন্দোলনে রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিতা মারা যাওয়ার দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Rumor Scanner’s own analysis.
- Statement from Meshkatul Jannat.
- Facebook post by Shariful Sharif.
|