schema:text
| - সম্প্রতি ‘খেলা জমেছে এবার, শেখ হাসিনার কর্মীরা সারা দাও’ শীর্ষক শিরোনামে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে।
ভিডিওটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যের কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ যুক্ত করে দাবি করা হয়েছে, রুমিন ফারহানার সাথে হাত মিলিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এছাড়াও ভিডিওটির বিস্তারিত অংশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের একটি ভিডিও ফুটেজ যুক্ত করে দাবি করা হয়েছে, মির্জা ফখরুলের সাথেও হাত মিলিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা কিংবা মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেউই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে হাত মেলাননি বরং ইন্টারনেট থেকে রুমিন ফারহানা ও মির্জা ফখরুলের বিভিন্ন বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত ভিডিওটি বানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। ভিডিওটির শুরুর একটি ফুটেজে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, “শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে যা করনীয় দরকার তাই করতে হবে। শেখ হাসিনার যদি অস্তিত্ব না থাকে, যদি আওয়ামীলীগ না আসে তাহলে কিন্তু এই দেশে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। আমরা রক্ত চাই না, আমরা শান্তি চাই।”
ভিডিওটির সংবাদপাঠ অংশে দাবি করা হয়, রুমিন ফারহানা ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে হাত মিলিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দাবিটি যাচাইয়ে আলোচিত ভিডিওটিতে যুক্ত রুমিন ফারহানা ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভিডিও ফুটেজগুলো আলাদা আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম।
ফুটেজ যাচাই-১
আলোচিত ফুটেজের কিছু কী ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ‘Rumeen’s Voice’ নামক ফেসবুক পেজে ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট ‘পুলিশ-কর্তা মনিরুল কি মার্কিন ভিসা নীতির শিকার হলেন?’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিওটি পাওয়া যায়। এই ভিডিওর একটি অংশের সাথে আলোচিত ফুটেজের মিল পাওয়া যায়।
ভিডিওটিতে রুমিন ফারহানাকে সাবেক পুলিশ কর্মকতা মনিরুল ইসলামের একটি বক্তব্য পড়ে শোনাতে দেখা যায়।
অর্থাৎ, এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং এটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের পুরোনো ভিডিও। এর সাথে আলোচিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।
ভিডিও যাচাই-২
অনুসন্ধানে Rumeen’s Voice পেজে ২০২৩ সালের ১ জুন ‘ঢাবি শিক্ষক সমিতির কি ন্যূনতম লজ্জাও নেই?’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। এই ভিডিওটির একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওটির একটি অংশের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
ভিডিওতে রুমিন ফারহানা সেসময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মামলার বিষয়ে বিবৃতি দেওয়ার জন্য ঢাবি শিক্ষক সমিতির সমালোচনা করেছেন।
অর্থাৎ, এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং এটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের ভিডিও। এর সাথে আলোচিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।
ভিডিও যাচাই-৩
আলোচিত ফুটেজের কিছু কী ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘বায়ান্ন টিভি ’র.ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ০২ আগস্ট ‘বিএনপি হিসেবে এখানে আসিনি, ছাত্রদের সাথে একাত্মতা জানাতে এসেছি: রুমিন ফারহানা’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। এই ভিডিওটির একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওটির একটি অংশের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
ভিডিওটিতে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, “সরকারকে বুঝতে হবে গত ১৭ বছর তারা যে অত্যাচারের স্টিম রোলার চালিয়েছে, বাংলাদেশের মানুষকে একটা সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন বানিয়ে রেখেছে, দেশটাকে তার নিজের বাপের দেশ বানিয়েছে, আর আমরা যেন সকলেই এখানে অনুপ্রবেশকারী সকলেই এখানে রোহিঙ্গা যেন সকলেই এখানে সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন। এমন একটা আচরন সরকার বাংলাদেশের মানুষের সাথে করেছে। তার জবাব দিতে এসেছি।”
অর্থাৎ, এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং এটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের পুরোনো ভিডিও। এর সাথে আলোচিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।
ভিডিও যাচাই-৪
আলোচিত ফুটেজের কিছু কী ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘ডিবিসি নিউজ’র ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৩ আগস্ট ’বঙ্গবন্ধুর মূর্তি টেনেহিঁচড়ে ভাঙা দেখে কষ্ট লেগেছে মির্জা ফখরুলের’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। এই ভিডিওটির একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওটির একটি অংশের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
ভিডিওটিতে মির্জা ফখরুলকে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী শেখ মুজিবর রহমানের মূর্তির বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায়।
অর্থাৎ, এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং এটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের ভিডিও। এর সাথে আলোচিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।
ভিডিও যাচাই-৫
আলোচিত ফুটেজের কিছু কী ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘জিটিভি নিউজ’র.ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ‘ডিবেট টুনাইট | রাজনীতির হালচাল’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। এই ভিডিওটির একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওটির শুরুর অংশের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
ভিডিওটিতে আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওসারকে উদ্দেশ্য করে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, “ক্ষমতা থেকে নামেন, বাড়ির মুখ দেখবেন না কত বছর দেইখেন।”
অর্থাৎ, এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং এটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের ভিডিও। এর সাথে আলোচিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।
উপরিউক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে এটা স্পষ্ট যে, রুমিন ফারহানা ও মির্জা ফখরুলের পুরোনো বক্তব্যের কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে যুক্ত করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
রুমিন ফারহানার ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বা ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো তথ্য বা বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো তথ্য বা বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পাশাপাশি, গণমাধ্যম কিংবা বিএনপি সংশ্লিষ্ট অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে আলোচিত দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, মির্জা ফখরুল ও রুমিন ফারহানা শেখ হাসিনার সাথে হাত মিলিয়েছেন দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Rumeen’s Voice Facebook: পুলিশ-কর্তা মনিরুল কি মার্কিন ভিসা নীতির শিকার হলেন?
- Rumeen’s Voice Facebook: ঢাবি শিক্ষক সমিতির কি ন্যূনতম লজ্জাও নেই?
- Bayanno TV Youtube: বিএনপি হিসেবে এখানে আসিনি, ছাত্রদের সাথে একাত্মতা জানাতে এসেছি: রুমিন ফারহানা
- DBC News Youtube: বঙ্গবন্ধুর মূর্তি টেনেহিঁচড়ে ভাঙা দেখে কষ্ট লেগেছে মির্জা ফখরুলের
- GTV News Youtube: ডিবেট টুনাইট | রাজনীতির হালচাল
- Rumor Scanner’s Own Analysis
|