| schema:text
| - সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। ভিডিওটিকে গানের আসরের দৃশ্য হিসেবে উপস্থাপন করে দাবি করা হচ্ছে, তিনি এবং তার সঙ্গে উপস্থিত জুলাইযোদ্ধারা মদ্যপ অবস্থায় ‘হাদি হাদি চুতিয়া’ গান গেয়েছেন।
এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
থ্রেডসে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
একই দাবির টিকটক ভিডিও দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার সঙ্গীরা গানের আসরে ‘হাদি হাদি চুতিয়া’ গান গেয়েছেন এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে, তারা ‘হারি হারি চুড়িয়া, গোরি গোরি বাইয়া’ বলছিলেন, যা ‘ছাপ তিলাক’ নামের একটি কাওয়ালির অংশ।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Asif Mahmud Fans Club’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিডিওটির মূল সংস্করণ পাওয়া যায়। সেখানে গানের শব্দগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, ‘হাদি হাদি চুতিয়া’ নয় বরং তারা ‘হারি হারি চুড়িয়া’ বলছিলেন। উল্লেখ্য, এ ধরনের বাক্যাংশ একটি জনপ্রিয় কাওয়ালি গানের অংশ হিসেবেই পরিচিত।
এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে অনলাইন সূত্রে ১৩শ শতাব্দীর প্রখ্যাত সুফি কবি, সংগীতজ্ঞ ও পণ্ডিত আমির খসরুর রচিত ‘ছাপ তিলক’ (Chaap Tilak) নামের সুফি সংগীত বা কাওয়ালিটি পাওয়া যায়। উক্ত কাওয়ালির একটি অংশে বলা হয়েছে, “hari hari churiyan, bayyan pakar dhar leeni ray mosay naina milaikay”। এ অংশটির অর্থ হলো, সবুজ রঙের চুড়ি পরা কোমল হাত দৃঢ়ভাবে ধরে রাখা হয়েছে এবং চোখে চোখ রেখে গভীর প্রেম বা আধ্যাত্মিক সংযোগের প্রকাশ ঘটানো হয়েছে।
অর্থাৎ, এই সুফি সংগীত বা কাওয়ালিটির উক্ত লাইনই আসিফ মাহমুদ ও তার সঙ্গীরা গানের আসরে গাচ্ছিলেন।
সুতরাং, আসিফ মাহমুদ ও তার সঙ্গীদের গানের আসরে গাওয়া ‘হারি হারি চুড়িয়া’ কাওয়ালির অংশকে ‘হাদি হাদি চুতিয়া’ বলে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
Asif Mahmud Fans Club – Facebook Post
-
GhulamEPanjatan7 – Youtube Video
-
Amir Khusro – Chaap Tilak
-
|