দীর্ঘ ১০ বছর পর আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথম কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার দেখানো হয়। গ্রেফতার দেখানো ব্যক্তি হলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান। এঘটনায় অনলাইন গণমাধ্যম আগামীর সময়ে একটি মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রচারিত প্রতিবেদনটিতে গ্রেফতার দেখানো সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার একটি ছবি দাবিতে একটি ছবি তুলে ধরা হয়। যেখানে একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে দুজন পুলিশ সদস্যকে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় ধরে রাখতে দেখা যায়।
আগামীর সময়ের ফেসবুক পেজে প্রচারিত প্রতিবেদনটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
একই গণমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদন দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আগামীর সময়ের মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদনে উপস্থাপিত ব্যক্তি তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হাফিজুর রহমান নন। প্রকৃতপক্ষে, ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার একজন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার আটক হওয়ার ছবিকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম প্রথম আলোয় একই ঘটনায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে তনু হত্যা মামলায় দেখানে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমানের একটি ছবিও দেখতে পাওয়া যায়। যার সাথে আগামীর সময়ের প্রতিবেদনে দেখতে পাওয়া ব্যক্তির চেহারার মিল পাওয়া যায়নি। পর্যালোচনায় স্পষ্টভাবে দুজনের চেহারার পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, হাফিজুর রহমান দাবিতে আগামীর সমযের প্রতিবেদনে উপস্থাপিত ব্যক্তি এবং প্রথম আলোর প্রতিবেদনের থাকা ছবির ব্যক্তির দুজন একদন ভিন্ন।
পরবর্তীতে আগামীর সময়ের প্রতিবেদনে উপস্থাপিত ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে অনলাইন গণমাধ্যম কালবেলার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতেও একই ছবিটির সন্ধান পাওয়া যায়। কালবেলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পুলিশের হাতে আটক এই ব্যক্তির নাম কবির খান। তিনি ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। তাকে গত ২২ এপ্রিল ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচন্ডি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চরভদ্রাসনের চর সালেপুর মুন্সিরচর বাজার এলাকায় কবির খানকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরায় পুলিশ। তাকে মোটরসাইকেলে তোলার সময় তার ভাই সূর্য খানসহ ১৫-২০ জন অনুসারী পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে এসআই রফিকুজ্জামানসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কবির খান হাতকড়াসহ পালিয়ে যান বলেও প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়।
কালবেলা ব্যতীতও একাধিক গণমাধ্যমে উক্ত ছবি সংবলিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে দেখা যায়। প্রতিবেদনগুলোতেও তাকে ছবিতে দেখতে পাওয়া আটক ব্যক্তির একই পরিচয় পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, আগামীর সময়ের প্রতিবেদনে তনু হত্যার মামলায় গ্রেফতার দেখানো সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান হিসেবে যাকে উপস্থাপিত করা হয়েছে তিনি ভিন্ন ব্যক্তি।
সুতরাং, তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হাফিজুর রহমান হিসেবে আগামীর সময়ের প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ নেতা কবির খানের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
Prothom Alo Website: তনু হত্যা মামলার আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় তোলা হলো আদালতে
-
Kalbela Website: পুলিশের ওপর হামলা, হাতকড়াসহ পালানো সেই আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার
-
Rumor Scanner’s Analysis
-