| schema:text
| - অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একটি মন্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। সম্প্রতি বেসরকারি একটি টেলিভিশনের অনলাইনে প্ল্যাটফর্মে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বর্তমান বিরোধী দলকে (জামায়াতে ইসলামী) নিয়ে উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নারীবিদ্বেষী ধর্মীয় উগ্রবাদী শক্তিকে মূলধারায় (মেইনস্ট্রিম) আসতে দেওয়া হয়নি। এরই প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুইটি ভিডিও ছড়িয়েছে যার একটিতে দাবি করা হয়েছে, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলছেন, “জামায়াতকে আমরা ক্ষমতায় আসতে দেইনি। আমরা ইঞ্জিনিয়ারিং করেছি। আমরাই মীর জাফর। জামায়াতই জয় পেয়েছে।” এই ভিডিওটি টিকটকে দেখা হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার বার।
অপর ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলছেন, “জামায়াত ১৬৮টি আসন পেয়েছে। কিন্তু আমরা ৬৮টিতেই আটকে দিয়েছি। এখানে বিএনপির কোনো হাত নেই।” এই ভিডিওটি টিকটকে দেখা হয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার বার।
উক্ত দাবির দুইটি টিকটক ভিডিও দেখুন এখানে, এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের মন্তব্য দাবিতে আলোচিত ভিডিও দুইটি আসল নয় এবং তিনি এসব মন্তব্যও করেননি। প্রকৃতপক্ষে, চ্যানেল ওয়ানকে দেওয়া রিজওয়ানার সাক্ষাৎকারের ফুটেজ ব্যবহার করে এই ডিপফেক ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে চ্যানেল ওয়ানের ফেসবুক পেজে গত ০২ মার্চ প্রকাশিত সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সাক্ষাৎকারের মূল ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়। এই ভিডিওর স্থান, রিজওয়ানা পোশাক এবং অবস্থানের সাথে আলোচিত ভিডিও দুইটির সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলোর মিল পাওয়া যায়। এই সাক্ষাৎকারে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সরকার এবং উপদেষ্টা হিসেবে রিজওয়ানা বিভিন্ন কার্যক্রম ও উদ্যোগের ব্যাপারে আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘‘একটা শক্তি আছে সেই শক্তি এর আগেও নারী নীতি বদলে দিয়েছে। সেই শক্তি আমাদের সময়ে কোনো নীতি বদলাতে পেরেছে যেটা নারীর অধিকার হরণ করে?’’
এই সময় সাংবাদিক বলেন, ‘‘সেই শক্তির একটা পার্ট এখন বিরোধী দলে।’’
প্রতিত্তোরে রিজওয়ানা বলেন, ‘‘সেই শক্তির একটা পার্ট যদি বিরোধী দল হয়েও থাকে আমার এবং আপনার কাজ হবে তাদের রাজনীতির যেটুকু অংশ নারীবাদের, নারীর ক্ষমতায়নের, নারীর সমান অংশ গ্রহণের বিরুদ্ধে সেটুকুন নিয়ে কাজ করা। কখনো যেন এ জাতীয় শক্তি মেইনস্ট্রিম না হতে পারে আমরা সেই কাজটা করতে পেরেছি। তাদেরকে আমরা মেইনস্ট্রিম হতে দিইনি।’’
মূলত, রিজওয়ানার বক্তব্যের এই অংশ নিয়েই আলোচনা হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। তবে পুরো সাক্ষাৎকারের কোনো অংশেই তাকে আলোচিত দুই দাবি সংক্রান্ত কোনো মন্তব্যই করতে দেখা যায়নি। রিজওয়ানাও পরবর্তীতে এক বক্তব্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে তিনি নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো আলাপই করেননি।
পরবর্তীতে আলোচিত ভিডিও দুইটি পর্যালোচনা করে এগুলো এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ, এই দুই ভিডিওতে রিজওয়ানা দাবিতে প্রচারিত কন্ঠের সাথে রিজওয়ানার কণ্ঠের স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তাছাড়া, ভিডিওতে ঠোঁটের নড়াচড়াসহ আনুষঙ্গিক উপাদানেও অসামঞ্জস্যতা রয়েছে।
ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি কিনা তা জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘ডিপফেক-ও-মিটার’সহ একাধিক টুল ব্যবহার করে এই দুই ভিডিও এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা ৬৫ থেকে ৮২ শতাংশ বলে জানা গেছে।
সুতরাং, জামায়াতকে ক্ষমতায় আসতে না দেওয়া প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিও দুইটি ডিপফেক।
তথ্যসূত্র
Channel One: ধর্মীয় উগ্রবাদীদের মেইনস্ট্রিম হতে দেইনি; মুখোমুখি রিজওয়ানা হাসান
-
Rumor Scanner’s own analysis
-
|