| schema:text
| - গত ৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকার নিজ বাড়ি শ্রাবন্তী ঘোষ নামের ১২ বছরের এক হিন্দু শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর প্রেক্ষিতে সম্প্রতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) কয়েকটি ভারতীয় অ্যাকাউন্ট থেকে উক্ত শিশুর ছবি প্রচার করে দাবি হচ্ছে, মোহাম্মদ নামের ৪৯ বছর বয়স্ক একজন মুসলিম ব্যক্তির সাথে ওই শিশুকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেটি তার পরিবার প্রত্যাখ্যান করায় শিশুটিকে কয়েকজন কট্টরপন্থী মুসলিম ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে হত্যা করে।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্রাবন্তী ঘোষ নামের ওই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, নিহত শিশুর মা তার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ তুললেও উক্ত ঘটনার সাথে সাম্প্রদায়িকতার সংযোগ থাকার কথা বলেননি। বরং, তিনি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তারাও প্রত্যেকেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে উক্ত ঘটনায় দৈনিক সমকালের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ৪ জানুয়ারি ভোর রাতে শ্রাবন্তী নামের ওই শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শিশুর মা ও বাবা দু’জনেই কর্মজীবী। বাবা কর্মস্থল থেকে সপ্তাহে একবার বাসায় আসেন। দিনে সন্তানরা কাছাকাছি এলাকায় মহিলার দাদার বাড়িতে থাকত। ঘটনার দিন রাতে শ্রাবন্তী একাই রাত ১০টার দিকে বাড়িতে ফেরেন। সেসময় তার মা কর্মস্থলে ছিলেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর মহিলার দাদা ছোট ছেলেকে নিয়ে বাসায় এসে দরজা খোলা পান। ভেতরে ঢুকে শ্রাবন্তীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে শ্রাবন্তীর মা বাসায় ফেরেন। সাধারণত তিনি দুপুরে কর্মস্থলে যান এবং রাত ১টার দিকে বাসায় ফেরেন।
নিহতের মা দাবি করেন, তার মেয়ে আত্মহত্যা সম্পর্কে কিছুই জানত না। যেহেতু সে একজন শিশু। এছাড়াও তার পা বিছানার সঙ্গে লাগানো ছিল, যা অস্বাভাবিক।
পাশাপাশি প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, নিহতের পরিবারের দাবি, তাদের মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতে তিনজনকে আটক করা হয় বলেন জানা যায়। তারা হলেন, বাড়ির মালিক প্রদীপ লাল ঘোষ ও প্রতিবেশী অজয় সিংহ। যারা প্রত্যেকেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এছাড়াও অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের মা রোজী ঘোষ। কিন্তু প্রতিবেদনের কোথাও উক্ত ঘটনার সাথে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সংযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি।
উক্ত প্রতিবেদনের পাশাপাশি এ ঘটনায় অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও ওই শিশুকে ধর্মান্তরিত করে কোনো বয়স্ক মুসলিম ব্যক্তি সাথে বিয়ে দেওয়ার দাবিটির প্রসঙ্গে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমন কিছু প্রতিবেদন দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
পরবর্তীতে আলোচিত দাবিটির বিষয়ে জানতে নিহত শিশু শ্রাবন্তী ঘোষের মা রোজী ঘোষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিউমর স্ক্যানারকে জানান, এইটুকু বাচ্চার বিয়ের প্রস্তাব আসার দাবিটি অবান্তর। মুসলিম ব্যক্তির সাথে বিয়ের প্রস্তাব কিংবা ধর্মান্তরিত করার দাবিতে যে তথ্যগুলো প্রচারিত হয়েছে সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এর সাথে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সম্পর্ক নেই। এছাড়াও তিনি বলেন, “আমার যাদের প্রতি সন্দেহ হয়েছে আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। তারা কেউ মুসলিম নন।”
সুতরাং, চট্টগ্রামের খুলশী এলাকার শিশু শ্রাবন্তীর মৃত্যুর সাথে কট্টরপন্থী মুসলিমদের জড়িত থাকার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
Samakal Website: চট্টগ্রামে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, বাড়ির মালিকসহ গ্রেপ্তার ২
-
Statement of Rosy Gosh, Mother of the deceased Shrabonti Ghosh
-
|