গত ৩০ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘আজ শরিয়তপুর ২০২৪ এর ৫ আগস্ট লুট হওয়া অস্ত দিয়ে গুলি করে জামাত শিবিরের লোকেরা’।
এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি ২০২৪ সালের ৫ জুলাইয়ে শরিয়তপুরে লুট হওয়া অস্ত্র দিয়ে গুলি করার দৃশ্যের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি বাংলাদেশেরই নয়, এটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সিরিয়ার শেখ মাখসুদ ও আশরাফি এলাকায় সেনাবাহিনী ও এইচএসডির (সিরিয়ার সুন্নি ইসলামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠী) মধ্যে গোলাগুলির ঘটনার ভিডিও।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ইরাকীয় গণমাধ্যমের ‘Channel 8 English’ ফেসবুক পেজে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিও সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়।
ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, সিরিয়ার শেখ মাখসুদ ও আশরাফি এলাকায় সিরিয়ান সেনাবাহিনী ও সিরিয়ায় সুন্নি ইসলামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠী এইচএসডি এর মধ্যে সরাসরি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সামনের সারিতে অবস্থান নিয়েছেন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী (আসায়িশ) এর একজন সদস্য। এটি সেই ঘটনারই দৃশ্য।
এ বিষয়ে ইরাকের আরেক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও থেকেও একই তথ্য জানা যায়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রচারিত ভিডিওটি প্রকৃতপক্ষে সিরিয়ার এবং এর সাথে আলোচিত দাবির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
সুতারাং, সিরিয়ার ভিন্ন ঘটনার ভিডিওকে শরিয়তপুর ২০২৪ এর ৫ আগস্ট লুট হওয়া অস্ত্র দিয়ে জামায়াত-শিবির কর্তৃক গুলি করার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
Channel 8 English – An Internal Security Forces (Asayish) member stands on the front lines in Sheikh Maqsoud, defending the neighbourhood against assaults by Syrian army units and pro-government factions.
-
Peregraf – Posted Video
-
Rumor Scanner’s Own Analysis
-