| schema:text
| - গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই প্রেক্ষাপটে লালমনিরহাট-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বেশি ভোট পেলেও বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে দাবিতে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলের একটি বার্তা শিট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়ানো ওই শিটে দেখা যায়, দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ৬৫,৬১২ ভোট এবং ধানের শীষ পেয়েছে ৬৪,৮১২ ভোট।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে।
একই দাবিতে ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, লালমনিরহাট-২ আসনটি কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলা নিয়ে গঠিত। ওই দুই উপজেলার সম্মিলিত ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৫৫টি। এর মধ্যে ৮৩টি ভোটকেন্দ্র বিশিষ্ট কালীগঞ্জ উপজেলার ফলাফল নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে। তবে আদিতমারী উপজেলার ৭২টি ভোটকেন্দ্রসহ সম্মিলিত ফলাফলে ধানের শীষের প্রার্থীই জয়লাভ করেন।
এই বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে প্রচারিত বার্তা শিটটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ৮৩টি। এই বিষয়টি সূত্র ধরে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে লালমনিরহাট-২ নির্বাচনী এলাকার ভোটকেন্দ্রের তালিকা যাচাই করা হয়। জানা যায়, এই আসনটি কালীগঞ্জ ও আদিতমারী নামে দুটি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত। কালীগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৩টি এবং আদিতমারী উপজেলায় ৭২টি। অর্থাৎ, উভয় উপজেলা মিলিয়ে লালমনিরহাট-২ আসনে মোট ১৫৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।
তবে প্রচারিত বার্তা শিটে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা কেবল ৮৩টি দেখা যায়। অর্থাৎ, এটি শুধুমাত্র কালীগঞ্জ উপজেলার কেন্দ্রগুলো থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের তথ্য। বিষয়টি নিশ্চিত হতে অনুসন্ধানের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আদিতমারী’ নামক একটি ফেসবুক প্রোফাইলে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। ওই পোস্টে লালমনিরহাট-২ আসনের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলের দুটি পৃথক বার্তা শিট দেখা যায়। রিউমর স্ক্যানার নিজস্ব সূত্রের সাহায্যেও এই বার্তা শিটগুলো সংগ্রহ করেছে।
অপর বার্তা শিট অনুযায়ী, এই উপজেলার মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৭২টি। এই বার্তা শিট অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মোঃ ফিরোজ হায়দার পেয়েছেন ৬৫,৬১২টি ভোট। অপরদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মোঃ রোকন উদ্দীন বাবুল পেয়েছেন ৬৪,৮১২টি ভোট।
অপর বার্তা শিট অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মো: ফিরোজ হায়দার পেয়েছেন ৫০,৬২৪টি ভোট। অপরদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মো: রোকন উদ্দীন বাবুল পেয়েছেন ৫৮,৫৩১টি ভোট।
এই দুই উপজেলার সম্মিলিত ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের একটি পূর্ণাঙ্গ বার্তা শিটও সংগ্রহ করে রিউমর স্ক্যানার। এতে দেখা যায়, ধানের শীষের প্রার্থী পেয়েছেন ১,২৩,৯৪৬টি ভোট এবং দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী পেয়েছেন ১,১৭,২৫২টি ভোট।
উল্লেখ্য, দুই উপজেলার পৃথক ফলাফলের যোগফল ও সম্মিলিত ফলাফলের মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থীর দুই উপজেলার ভোটের যোগফল ১,২৩,৩৪৩ হলেও সম্মিলিত শিটে তা ১,২৩,৯৪৬। একইভাবে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর ক্ষেত্রে যোগফল ১,১৬,২৩৬ হলেও সম্মিলিত ফলাফলে দেখা যায় ১,১৭,২৫২। পোস্টাল ব্যালটের ভোট যুক্ত হওয়ার কারণেই এ পার্থক্য সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।
অর্থাৎ, একটি উপজেলার ভোটে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও, অন্য উপজেলার ভোটের ব্যবধানে সামগ্রিকভাবে ধানের শীষের প্রার্থীই জয়লাভ করেন। অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেবল একটি উপজেলার আংশিক ফলাফলের বার্তা শিটের ছবি ব্যবহার করে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।
সুতরাং, লালমনিরহাট-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বেশি ভোট পেলেও ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী ঘোষণা করার দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
Rumor Scanner’s analysis.
-
Preliminary unofficial results sheet.
-
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আদিতমারী: Facebook Post
-
|