প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানহানির অভিযোগে গত ৮ মার্চ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন।
এই প্রেক্ষাপটে, “পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা করায় মির্জা আব্বাস শোকজ” শিরোনামে আমার দেশ-এর লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত শিরোনামে দৈনিক আমার দেশ কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি এবং বিএনপিও মির্জা আব্বাসকে শোকজ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, আমার দেশের ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে আলোচিত দাবিসংবলিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে আমার দেশ লোগো এবং এটি প্রকাশের তারিখ ০৮ মার্চ ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।
উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে আমার দেশের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, আমার দেশের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে, আমার দেশের ফেসবুক পেজে একই বিষয়ে সেদিন প্রকাশিত “নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা করায় বিএনপি নেতাকে শোকজ” শিরোনামের অন্য একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।
এই ফটোকার্ডটির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটির উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। দুটি ফটোকার্ড তুলনা করে দেখা যায়, মূল ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করে এতে মির্জা আব্বাসের ছবি সংযোজন করা হয়েছে এবং শিরোনাম পরিবর্তনের মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
ওই ফটোকার্ড সংবলিত আমার দেশের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করায় বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের রমনা থানা সভাপতি আশরাফুল ইসলামকে শোকজ করে দলটি। সেখানে মির্জা আব্বাসকে শোকজ করা হয়েছে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ‘পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা করায় মির্জা আব্বাস শোকজ’ শিরোনামে আমার দেশের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
Daily Amar Desh – Facebook Page
-
Daily Amar Desh – Website
-
Daily Amar Desh – YouTube Channel
-
বাংলা ট্রিবিউন
-
Rumor Scanner’s Analysis
-