| schema:text
| - সম্প্রতি, ঢাকায় মেট্রোরেল স্টেশনে যুবকদের সংঘর্ষের একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খানের সাথে নারী দেখে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মারধর করেছে।
উক্ত দাবির প্রেক্ষিতে একটি কল রেকর্ডও প্রচার করা হচ্ছে যাতে দাবি করা হচ্ছে, আবিদুল ইসলাম খান ছাত্রশিবিরের সাথে মেট্রো স্টেশনে সংঘর্ষের নিউজ ডিলিট করতে কল করেছেন।
ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, মেট্রো স্টেশনে সংঘর্ষের ভিডিওটি ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খানের নয় এবং নিউজ ডিলিটের অনুরোধ করা কল রেকর্ডটির সাথেও এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, মেট্রো স্টেশনে সংঘর্ষের ঘটনাটি ভিন্ন যুবকদের সংঘর্ষের এবং কল রেকর্ডটি গত বছরের ডিসেম্বরের ভিন্ন ঘটনার।
ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধান
Now On Times নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ১৪ এপ্রিল প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে।
ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাদা পাঞ্জাবি পরা দুই যুবক অ্যাশ কালার পাঞ্জাবি পরা এক যুবককে মারধর করছেন। তবে, মারধরের শিকার যুবকের চেহারা আবিদুল ইসলাম খানের চেহারার সাথে মিল নেই।
এছাড়া, পোস্টের ক্যাপশনে আবিদুল ইসলাম খানের নাম উল্লেখ নেই। শুধু বলা হয়েছে, পহেলা বৈশাখে নারীকে ঘুরতে নিয়ে আসা স্বজনদের হাতে মেট্রো স্টেশনে মারামারি।
উক্ত ঘটনার ভিন্ন দিক (অ্যাঙ্গেল) থেকে আরেকটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।
এই ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যায়, উক্ত ব্যক্তি আবিদুল ইসলাম খান নন।
রিউমর স্ক্যানার অসমর্থিত সূত্রে জানতে পেরেছে, মেট্রো স্টেশনে সেদিন আক্রান্ত ব্যক্তি জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের একজন কর্মকর্তা। সেদিন সাথে থাকা তার স্ত্রীর সাথে স্টেশনে উপস্থিত কিছু তরুণের ঝামেলার প্রেক্ষিতে এই ঘটনা ঘটে।
অর্থাৎ, ভিডিওর ব্যক্তি আবিদুল নন।
কল রেকর্ডটির বিষয়ে অনুসন্ধান
অনুসন্ধানে বাংলাদেশ টাইমস এর ফেসবুক পেজে গত বছরের ০৬ ডিসেম্বর প্রচারিত একটি কল রেকর্ড পাওয়া যায়। উক্ত রেকর্ডের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত রেকর্ডের মিল রয়েছে।
বাংলাদেশ টাইমস উক্ত পোস্টে করা কমেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রচারিত কল রেকর্ডটি গত বছরের ০৬ ডিসেম্বর মাসের পূর্বের।
আবিদুল ইসলাম খান রিউমর স্ক্যানারকে জানান, ‘সংঘর্ষের ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি জানেনই না এবং প্রচারিত কল রেকর্ডটি পুরোনো ভিন্ন ঘটনার।’
সুতরাং, মেট্রোরেল স্টেশনে ছাত্রশিবির কর্তৃক মারধরের শিকার ছাত্রদল নেতা আবিদুল শীর্ষক দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং প্রচারিত কল রেকর্ডটিও পুরোনো।
তথ্যসূত্র
Now On Times- Video
-
Jalals Dairy- Video
-
Bangladesh Times- Facebook Post
-
Abidul Islam Khan- Facebook Account
-
Abidul Islam Khan- Statement
-
|