| schema:text
| - সম্প্রতি, “মাদারীপুর ১ নব নির্বাচিত এমপি হানজালা ভাই সাহেবের প্রথম উদ্যোগ নিয়েছে মাদক নির্মূল করা, এই হইলো দেশ শান্তি করার মিশন আলেমরারা ক্ষমতায় আসলে যা হয়, মাশাল্লাহ ভালো লাগলো।” শীর্ষক ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্বাচনে জয় লাভের পর মাদারীপুর-১ আসনে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা মাদক নির্মূলের জন্য শাস্তিস্বরূপ কিছু ব্যক্তিকে মারধর করেছেন দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৪ সালের ভিডিওকে সাম্প্রতিক সময়ের দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মাদারীপুরের স্থানীয় সাংবাদিক এমদাদ খানের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফুটেজের মিল রয়েছে।
উক্ত ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়, সেসময় মাদারীপুরের শিবচরে মাদক কিনতে আসা ৪ যুবককে জুতাপেটা ও লাঠিপেটাসহ কান ধরে উঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই পীরজাদার আলহাজ হাফেজ মাওলানা মো. মোহসেন ও পীরজাদা হাফেজ মাওলানা হানজালার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অস্বীকার করে পীরজাদা আলহাজ হাফেজ মাওলানা মো. মোহসেন বলেন, আমরা কাউকেই মারধর করিনি ও জুতাপেটাও করিনি। তবে, যারা মাদক কিনতে এসেছিল তাদেরকে ভয় দেখাইছি।
এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে চ্যানেল ২৪ এর ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২২ আগস্ট (২০২৪) মাদারীপুরের শিবচরে বাহাদুরপুর এলাকায় মাদক কিনতে আসা শহিদুল ইসলামকে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে খবর দেয়া হয় শিবচরের বাহাদুরপুরের পীর সাহেব মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান সাহেবের ছোট ভাই পীরজাদা আলহাজ হাফেজ মাওলানা মো. মোহসেন ও চাচাতো ভাই পীরজাদা হাফেজ মাওলানা হানজালাকে। এরপর মোহসেন ও হানজালা কানধরে উঠসব করান শহিদুলকে। একপর্যায়ে শহিদুলকে লাঠিপেটা ও জুতাপেটা করানোর অভিযোগ ওঠে ওই দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে। কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যায় একই এলাকায় আরও তিন যুবক মাদক কিনতে আসছে, এমন অভিযোগে আটক করেন এলাকাবাসী। পরে একইভাবে ওই তিন যুবককে লাঠিপেটা ও জুতাপেটা করা হয়। অভিযোগ অস্বীকার করে পীরজাদা আলহাজ হাফেজ মাওলানা মো. মোহসেন বলেন, আমরা কাউকেই মারধর করিনি বা জুতাপেটাও করিনি। তবে, যারা মাদক কিনতে এসেছিল তাদের ভয় দেখিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মাদবররা উঠেপড়ে লেগেছে। কারণ তারা মাদক বিক্রির টাকা থেকে কমিশন পায়। আমরা চাই এলাকায় কোনো মাদক সংশ্লিষ্ট কাজ হবে না। তাই এমন উদ্যোগ নিয়েছি।
সেসময় এবিষয়ে অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোও সংবাদ (১, ২, ৩) প্রচার করে।
সুতরাং, মাদক ক্রয় করতে আসার অভিযোগে ২০২৪ সালে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা কর্তৃক কিছু ব্যক্তিকে মারধর করার ভিডিওকে সাম্প্রতিক সময়ের দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
সাংবাদিক এমদাদ খান – Facebook Post
-
Channel 24 – মাদক কিনতে আসা ৪ যুবককে জুতাপেটার অভিযোগ, ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল
-
|