গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ ঘটনায় ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। এর প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানকারী প্রবাসী বাংলাদেশিরা হামলা চলাকালীন ঘটনাস্থল থেকে আর্তনাদ জানিয়ে ভিডিওবার্তা প্রচার করেছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুটি ভিডিও প্রচারিত হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার।
উক্ত দাবিতে প্রচারিত ভিডিও দুটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইরানের হামলা চলাকালীন ঘটনাস্থল থেকে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের আর্তনাদ জানিয়ে ভিডিওবার্তা প্রচারের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওগুলো আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এসব ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালানোর সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ধারণ করা একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পাওয়া যায়। তবে আলোচিত ভিডিওগুলোর সেগুলোর মিল নেই। গণমাধ্যম বা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রেও এমন কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে প্রচারিত ভিডিওগুলো সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করে প্রায় প্রতিটি ভিডিওতেই কিছু এআইজনিত অসঙ্গতি লক্ষ্য করে রিউমর স্ক্যানার। এর মাঝে দ্বিতীয় ভিডিওটিতে একজন ব্যক্তিকে ক্ষেপনাস্ত্র বিস্ফোরণের স্থানের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। যা বাস্তব সম্মত নয়। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেকের কথা বলার ভঙ্গিতে এআই জনিত লক্ষণ স্পষ্ট। তাই ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় নির্মিত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম Hive Detect-এ ভিডিওগুলো পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
ভিডিওগুলোর ক্রিয়েটরের বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘কাদের ভাই’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ১ মার্চ রাত ১০ টা ১০ মিনিটে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত প্রথম ভিডিওটির সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি খুঁজে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে উক্ত অ্যাকাউন্টটি পর্যালোচনা করে এতে একই ধরনের একাধিক এআই ভিডিও প্রচারিত হতে দেখা যায়। এ থেকে ধারণা করা যাচ্ছে, আলোচিত এই ভিডিওটি উক্ত অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারী এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করেছেন।
দ্বিতীয় ভিডিওটির ক্রিয়েটরের বিষয়ে অনুসন্ধানে Fedu Press Reporter নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে গত ৩ মার্চ ভিডিওটি প্রথম প্রচারিত হতে দেখা যায়। উক্ত চ্যানেলটি পর্যালোচনা করেও এতে আগের পেজটির মত একই ধরনের একাধিক এআই ভিডিও প্রচারিত হতে দেখা যায়। এ থেকে ধারণা করা যাচ্ছে, আলোচিত এই ভিডিওটি উক্ত অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারী এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করেছেন।
সুতরাং, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানকারী প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইরানের হামলা চলাকালীন ঘটনাস্থল থেকে আর্তনাদ জানিয়ে ভিডিওবার্তা প্রচার করেছেন দাবিতে প্রচারিত ভিডিওগুলো এআই জেনারেটেড।